Loading...
You are here:  Home  >  অবাক তথ্য  >  Current Article

রিট করার নিয়ম

By   /  28/12/2017  /  Comments Off on রিট করার নিয়ম

    Print       Email

কোন নাগরীকের মৌলিক অধিকার লংঘন হয়েছে কিংবা কোন বিষয়ে প্রচলিত আইনে প্রতিকার নেই এমন দুই’টি ক্ষেত্রে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে  যে পিটিশন দায়ের করা হয় তাকে রীট   বলা হয় , তাহলে দেখলাম রীট   মূলত দুটি কারনে করা যেতে পারে

১. সংবিধানে বর্নিত নাগরীকের মৌলিক অধিকার লংঘিত হয়েছে এমন কোন বিষয়ে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য রীট   পিটিশন দায়ের করা যেতে পারে

২. প্রচলিত আইনে প্রতিকার নেই এমন কোন বিষয়ে সংক্ষুব্দ্ধ ব্যাক্তি প্রতিকার চেয়ে মহামান্যা হাইকোটে রীট   পিটিশন দায়ের করতে পারে

 

  • আরও একটি বিষয় পরিস্কার করে বোঝা দরকার তা হল কোন বেসরকারি ব্যক্তির বিরুদ্ধে রীট  মামলা চলে না । প্রতিপক্ষ হতে হবে রাষ্ট্র কিংবা তার কোন অঙ্গে  নিয়োজিত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী
  • যেহেতু ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে তাই কোন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান যদি আপনার মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করে তাহলে, আপনি রীট  মামলা দায়ের করতে পারবেন না। আপনাকে যেতে হবে, দেওয়ানী আদালতে,

Ex- ধরে নেয়া যাক- আপনি একটি প্রাইভেট মেডিকেলে ডাক্তার হিসেবে কর্মরত আছেন। আপনি ৫ বছর সুনামের সাথে কাজ করার পর, ম্যানেজমেন্ট যদি কোন কারণে আপনার উপর ক্ষিপ্ত হন, তাহলে কোন প্রকার কারণ প্রদর্শন ছাড়াই আপনাকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার মনে হতেই পারে, এটি যদি সরকারী মেডিকেলে হয় তাহলে কি হবে?

 

কিভাবে রীট করতে হয়ঃ

১. এজন্য আপনাকে হাইকোর্টে গিয়ে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলতে হবে  ।

২. আইনজীবী আপনার রিটের কারনগুলো উল্লেখ করে একটি রীট   পিটিশন  লিখবে এবং উক্ত রীট   পিটিশন টি হাইকোর্টে দাখিল করবে

৩. এবার রীট  পিটিশনের উপর ভিত্তকরে আদালতে প্রাথমিক শুনানি হবে যা রুল শুনানি নামে বেশি পরিচিত

৪. উক্ত শুনানিতে আদালত বাদী পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হলে বিবাদীর উপর রুল জারি করবেন অর্থাৎ রুল শুনানিতে যদি আদালত মনে করে বাদী পক্ষের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি রিটের শর্তগুলো পূর্ণ করেছে তবে আদালত উক্ত রিটের জবাব দেওয়ার জন্য বিবাদীকে নির্দেশ দিবে যা রুল জারি নামে পরিচিত

৫. অনেকক্ষেত্রে বিষয়টি যদি তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন আদালত মনে করে তবে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে এবং একই সাথে রুল জারি করতে পারে। আর যদি  প্রাথমিক শুনানিতে আদালত বাদী পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট সন্তুষ্ট না হয় তবে উক্ত রীট   আবেদনটি খারিজ করে দিবে

৬. এবার বিবাদীর থেকে  রুলের জবাব পাওয়ার পর উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আদালত চূড়ান্ত শুনানি গ্রহন করবেন

৭. উক্ত শুনানির উপর ভিত্তি করে আদালত সুচিন্তিত একটা ডিরেকশন দিবেন যা অনেকটা রায়ের মতো বলতে পারেন।   আদালতের এই  ডিরেকশন প্রদানের মাধ্যমে একটি রীট  মামলার চূড়ান্ত নিস্পত্তি হয়ে থেকে

 

তাহলে আমরা দেখলাম একটি রিটের পুরো প্রক্রিয়া কিভাবে স্মপদন হয়ে থাকে ।  প্রথমে রিটি পিটিশন আদালতে জমা দিতে হয় । উক্ত রিটি পিটিশনের উপর ভিত্তি করে রুল শুনানি হয় এর পরে আদালত রুল জারি করে । বিবাদি রুলের জবাব দেওয়ার পরে হয় চূড়ান্ত শুনানী । উক্ত শুনানীর উপর ভিত্তি করে আদালত  ডিরেকশন প্রদান করে ।

 

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রীট হয়ে থাকে যে বিষয়গুলো নিয়ে তা হল

১. কারো কোন সরকারি পদে থাকার বৈধতা নিয়ে

( আপনি যদি মনেকরেন কোন ব্যক্তি আইনত কোন সরকারি পদে থাকার যোগ্যতা না থাকা স্বত্বেও তিনি উক্ত পদে আছে তবে আপনি উক্ত ব্যক্তির পদে থাকার বৈধতা নিয়ে রীট   করতে পারেন ।  কিছুদিন পুর্বে আমার দেখেছিলাম আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের মন্ত্রী পদে থাকার বৈধতার চ্যালেঞ্জ করে রীট   আবেদন করেছেন  )

২. কমিটি গঠনের বৈধতা নিয়ে রীট

(আপনি যদি মনে করেন কোন কমিটি গঠন করা বিধি বহির্ভুতভাবে তবে আপনি উক্ত কমিটির বৈধতা নিয়ে রীট   করতে পারবেন হাইকোর্টে । কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির বৈধতা নিয়ে রীট   করা হয় )

৩. নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে রীট

(আপনি যদি মনে করেন কোন সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াতে দুর্নিতি হয়েছে বা নিয়ম বহির্ভুতভাবে কাউকে চাকরি দেওয়া হয়েছে তাহলে উক্ত  নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে   রীট   করতে পারেন )

৪. সরকারি কোন ব্যক্তি বা প্রতিস্টান বিধি বহির্ভুতভাবে কাউকে জমি থেকে উচ্ছেদ করতে চাইলে

(মনেকরুন আপনি একটি জমিতে দীর্ঘকালজাবত ভোগ দখল করে আসছেন এখন হঠাত UNO আপনাকে উক্ত জমি ছেরেদিতে নোটিশ দিয়েছে । আপনি এখন হাইকোর্টে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রীট   করতে পারেন)

৫. কাউকে কোন পদ থেকে বিধি বহির্ভুতভাবে বহিষ্কার করলে

(আপনি দীর্ঘদিন একটি প্রতিস্টানে চাকুরিরত অবস্থায় আছেন । এখন হঠাত আপনাকে কোন জোক্তিক কারন না দেখিয়ে চাকুরিথেকে বহিষ্কার করেছে এখন আপনি হাইকোর্টে উক্ত বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে রীট   করতে পারেন । যদিও আপনি এ জন্য এডমিনিস্টেটিব ট্রাইব্যুনালে এখন মামলা  করতে পারে  )

৬. সংবিধান পরিপন্থী  বা মৌলিক অধিকার পরিপন্থী কোন আইন হলে

(মনেকরুন সরকার এমন একটি আইন বানালো যা সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সাথে সাংগরসিক তবে উক্ত আইনটি বাতিলের জন্য আপনি হাইকোর্টে রীট   করতে পারেন । এছাড়া সরকারের প্রণীত কোন আইন প্রচলিত অন্য আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলেও উক্ত আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে রীট   করা যায় )

৭. সরকারি কোন বে-আইনি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রীট করতে পারেন

( কিছুদিন পূর্বে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনকে কেন অবেধ ঘোষণা করা হবে না নিয়ে হাইকোর্টে রীট   হয় )

৮. দেশের স্বার্থে বা জন স্বার্থে কোন কিছু ক্ষতিকর হলে আপনি রীট   করতে পারবেন

(আপনি যদি মনেকরেন দেশে এমন কিছু আছে বা ঘটছে যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর তাহলে আপনি উক্ত ক্ষতিকর বিষয়টি বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রীট   করতে পারেন ।  কিছুদি আগে ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসাকে বন্ধ করার জন্য হাইকোর্টে একটি রীট   হয়েছিল ।  )

৯. আপনার জমি সরকার অধিগ্রহণ করলে উক্ত অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে

(মনেকরুন আপনি একটি জমিতে বসবাস করছেন এখন সরকার উক্ত স্থানে একটি  স্টেডিয়াম করতে চাচ্ছেন । এখন আপনি উক্ত অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রীট   করতে পারেন  )

১০. সরকারি কোন সিদ্ধান্তে আপনি সংক্ষুব্ধ হয়ে রীট   করতে পারেন

(কিছুদিন আগে দেখেচি অতিরিক্ত পোর কর বৃদ্ধি করেছে তার বিরুদ্ধে রীট   করা হয়েছে  )

 

রিট সম্পর্কে আরো প্রশ্ন থাকলে ফোন করুন – 01917-568940

ধন্যবাদ ।

    Print       Email

You might also like...

ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে করবেন?

Read More →