Loading...
You are here:  Home  >  পারিবারিক সমস্যা  >  Current Article

বেড়েই চলেছে বিবাহ বিচ্ছেদ !!!

By   /  03/05/2017  /  Comments Off on বেড়েই চলেছে বিবাহ বিচ্ছেদ !!!

    Print       Email

পরস্পরকে পছন্দ-ভালোবাসা তারপর  বিয়ে হলেও বেশিদিন একসঙ্গে থাকতে পারেননি আসমা-সজল (ছদ্মনাম) দম্পতি। প্রথম কয়েক মাস শ্বশুর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকলেও আস্তে আস্তে দূরত্ব বাড়তে থাকে। আসমার চলাফেরা, কথাবার্তা কিছুই তাদের পছন্দ হয় না। বিশেষ করে সমস্যা হতে থাকে রান্না-বান্নাসহ ঘরের আনুষঙ্গিক কাজ নিয়ে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির প্রভাব পড়ে আসমা-সজলের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। এক পর্যায়ে সজল সিদ্ধান্ত নেন আলাদা হওয়ার। আসমার পরিবারের আপত্তি থাকলেও সজল ও তার পরিবার বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে আসমাকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠায় সজল।

আধুনিক সমাজে উত্তরোত্তর বাড়ছে এই বিয়ে বিচ্ছেদের সমস্যা। দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় ঢাকা মহানগরীতে বিয়ে বিচ্ছেদ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গত ছয় বছরের (২০১০ থেকে ২০১৬ সাল) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন গড়ে ১৪টি, মাসে ৪২৯ এবং বছরে পাঁচ হাজার ১৪৩টি বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। গত ছয় বছরে এ দুটি করপোরেশনে বিয়ে বিচ্ছেদের নোটিশ পড়েছে ৩৬ হাজার ৩৭১টি। এর মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে ৩০ হাজার ৮৫৫টি। এ সময় স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীকে তালাকের নোটিশ পড়েছে ২৪ হাজার ৮০৩ এবং স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ ১২ হাজার ১৮টি। অর্থাৎ তালাকের নোটিশ পাঠানোর ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি, যা কিছুদিন আগেও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কল্পনাতীত ছিল।

নারীর আবেদন বেশি হওয়ার কারণ : তালাকের জন্য নারীর আবেদন বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। যে কারণে তারা অন্যায় ও নির্যাতন আর মেনে না নিয়ে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই দরকার কাউন্সেলিংয়ের।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, ‘নারীদের মধ্যে শিক্ষার হার যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের সচেতনতাও বাড়ছে। বাড়ছে স্বনির্ভরতাও। তাই তারা এখন অত্যাচার এবং অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হচ্ছেন। এতে প্রতিকার না হলে মুখ বুজে নির্যাতন সহ্যের চেয়ে বিয়ে বিচ্ছেদকেই শ্রেয় মনে করছেন।’ তিনি বলেন, ‘বিয়ে বিচ্ছেদের পর অবশ্য নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সমাজে তাদের নানাভাবে হেনস্তা হতে হচ্ছে। দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক নারীই এ চাপ সহ্য করতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বিয়ে বিচ্ছেদের প্রধান শিকার সন্তানরা। বাবা-মায়ের স্বাভাবিক সঙ্গ এবং ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের স্বাভাবিক মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। তারা এক ধরনের ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে’ ভুগছে।’

সালমা আক্তার বলেন, ‘এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতা জরুরি। পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধনও বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা।’

বিয়ে বিচ্ছেদের কারণ : বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন ১৯৯৫ সাল থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, তালাক সংক্রান্ত যেসব আবেদন এরই মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে তার মধ্যে ৮৭ শতাংশ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে পরকীয়ার জের ধরে।

পারিবারিক কলহও স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া সামাজিক অবক্ষয়, পুরুষত্বহীনতা, মতের অমিল এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার ও এর মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগও বিয়ে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে কাজ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিমের মতে, বিয়ে বিচ্ছেদের অন্যতম দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমটি সামাজিক, অন্যটি অর্থনৈতিক। এ ছাড়া দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য, শারীরিক চাহিদার তারতম্য, বয়সের পার্থক্য, মানুষের মধ্যে শূন্যতার বোধ ও আধুনিক সংস্কৃতির কারণে সংসার বেশি ভাঙছে। এর বাইরেও পরকীয়ার কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ হচ্ছে।

    Print       Email

You might also like...

বিদেশ থেকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নিয়ম

Read More →