Loading...
You are here:  Home  >  ভূমি সংক্রান্ত সচেতনতা  >  Current Article

অগ্রক্রয় কি – অগ্রক্রয়াধিকার মামলা করার নিয়ম

By   /  28/12/2017  /  Comments Off on অগ্রক্রয় কি – অগ্রক্রয়াধিকার মামলা করার নিয়ম

    Print       Email

একটি জমির গুরুত্ব প্রতিটি মানুষের নিকট কিন্তু সমান না । কিছু মানুষের নিকট কিছু জমি খুব  গুরুত্তপূর্ন ।তাই গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কিছু মানুষকে কিছু জমি কেনার ক্ষেত্রে অন্যদের থেকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশের আইনে একটু সুবিধা দিয়ে থাকে ।  অর্থাৎ মনে করুন আপনার বাবার একটি জমি আপনার ভাই ওয়ারিশ হিসাবে পেয়েছে এখন আপনার ভাই উক্ত জমিটি বিক্রি করতে চাইলে উক্ত জমিটি কেনার ক্ষেত্রে অন্য সকল ক্রেতার থেকেও আপনি আইনানুগভাবে একটু বেশি অধিকারি । আর এই সুবিধাকেই আমরা বলে থাকি অগ্রক্রয়ের অধিকার । অর্থাৎ অন্যদের থেকেও আগে কেনার অধিকার ।

আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের আইন অনুসারে অগ্রক্রয়ের মামলা হয়ে থাকে

১.  ‘রাষ্ট্রীয় আধগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন’ (সংশোধনী) ২০০৬ এর ৯৬ ধারা অনুসারে

২. ‘অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন’ এর ২৪ ধারা অনুসারে

 

কোন আইন অনুসারে অগ্রক্রয়ের অধিকারটি পাবেন তা মূলত নির্ভর করে জমিটির ধরনের উপর অর্থাৎ জমিটির ধরন যদি কৃষি জমি হয় তবে মামলা হবে ‘রাষ্ট্রীয় আধগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন’ অনুসারে। আর জমিটি যদি হয় বসতভিটা, আবাসিক এলাকা, শিল্পভিত্তিক জমি  সেক্ষেত্রে মামলাটি পরিচালিত হবে ‘অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন’ অনুসারে

তো চলুন প্রথমেই দেখি কৃষি জমির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় আইনের নিয়মগুলোঃ

কৃষি জমির ক্ষেত্রে কে অগ্রক্রয়ের অধিকারী হবে ?

উত্তরাধিকার সূত্রে যদি কেউ সহ-শরিক হয় তবে শুধুমাত্র অগ্রক্রয়ের অধিকারী হবে অর্থাৎ মনেকরুন আপনার পিতামাতার সম্পত্তি উত্তরাধিকার হিসাবে যারা প্রাপ্ত হয়েছে তারা যদি  উক্ত জমিটি বিক্রি করতে চাই তবে আপনি অগ্রক্রয়ের অধিকারী

 

কত দিনের মধ্যে অগ্রক্রয়ের জন্য মামলা করতে হবে ?

যেদিন জমি বিক্রয়ের জন্য রেজিস্ট্রি হয়েছে সে দিন থেকে ২ মাসের মধ্যে মামলা করতে পারবেন    অর্থাৎ আপনি যেদিন আপনার উত্তরাধিকারের জমিটি বিক্রয় হয়েছে সেদিন থেকে পরবর্তী ২ মাসের মধ্যে কোর্টে গিয়ে উক্ত জমির মূল্য কোর্টে জমা দিয়ে আপনি অগ্রক্রয়ের মামলা করতে পারবেন

 

অগ্রক্রয়ের মামলা করতে কোর্টে কত টাকা জমা দিতে হবে

  • উক্ত রেজিস্ট্রি দলিলে যে বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে সে পরিমাণ অর্থ জমা দিতে হবে
  • একই সাথে বিক্রয়মূল্যের অর্থের ওপর ২৫ % হারে ক্ষতিপূরনের অর্থ কোর্টে জমা দিতে হবে

অর্থাৎ বিক্রয়ের সময় দলিলে যে মূল্য দেওয়া হয়েছে উক্ত মূল্য এবং উক্ত মূল্যের উপর আরো ২৫ % অতিরিক্ত টাকা জমা দিতে হবে । ধরুন জমিটি যদি ১ লক্ষ টাকায় বিক্রিয় হয় এবং দলিলে ১ লক্ষ টাকা লেখা হয়ে থাকে তবে কোর্টে অগ্রক্রয়ের জন্য আবেদনকারীকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা জমা দিতে হবে অগ্রক্রয়ের আবেদন এবং উক্ত নির্ধারিত টাকা জমা দেয়ার পর আদালত উক্ত জমির বর্তমান ক্রেতাকে সমন দেবেন এবং কোর্টে হাজির হতে বলবেন

সবকিছু বিবেচনা করে আদালত যদি আবেদনকারীর উপর সন্তুষ্ট হয় তবে উক্ত জমিটির বর্তমান ক্রেতাকে জমিটি আবেদনকারীর অনুকূলে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য আদেশ প্রদান করবেন তবে এক্ষেত্রে কিন্তু আবেদনকারী প্রথমে কোর্টে যে টাকা জমা দিয়েছিল তা কিন্তু জমির বর্তমান ক্রেতা পাবে

এতোক্ষণ আমরা দেখলাম কৃষি জমির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় আইনের নিয়মগুলো এখন আমরা দেখবো জমিটি যদি কৃষি না হয়ে অকৃসি জমি অর্থাৎজমিটি যদি বসতভিটা, আবাসিক এলাকা, শিল্পভিত্তিক জমি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে অগ্রক্রয় আইনের নিয়মগুলোঃ

কে অগ্রক্রয়ের অধিকারী হবে ?

  • উত্তরাধিকার সূত্রে সহ-শরিক
  • ক্রয়সূত্রে সহ-শরিক অর্থাৎ মনে করুন একটি জমি ২ জন মিলে কিনলেন তবে এখানে একজন অন্যজনের ক্রয়সূত্রে সহ-শরিক
  • জমিটির চতুর্দিকের বসবাসরত জমির মালিকগণ অর্থাৎ

এখানে দেখন কৃষি জমির ক্ষেত্রে সুধু উত্তরাধিকার সূত্রে সহ-শরিক অগ্রক্র্যের মামলা করতে পারতো কিন্তু অকৃসির ক্ষেত্রে কিন্তু ৩ শ্রেণীর মানুষ এই সুবিধা পাবে

 

জমি বিক্রির কত দিনের মধ্যে আপনি অগ্রক্রয়ের জন্য মামলা করতে পারবেন ?

জমি বিক্রয়ের খবর জানার পর থেকে ৪ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয় মামলা করতে হবে অর্থাৎ কৃষি জমির ক্ষেত্রে যেমন ছিল ২ মাসের মধ্যে কিন্তু অকৃসি জমির ক্ষেত্রে ৪ মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে উক্ত রেজিস্ট্রি দলিলে যে বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে সে পরিমাণ অর্থ জমা দিতে হবে

  • একই সাথে বিক্রয়মূল্যের অর্থের ওপর শতকরা ৫ % হারে ক্ষতিপূরনের টাকা কোর্টে জমা দিতে হবে

 

অর্থাৎ কৃষির ক্ষেত্রে যেমন ১০০ টাকার উপর দিতে হত ১২৫ টাকা আর অকৃসির ক্ষেত্রে কিন্তু ১০০ টাকায় দিতে হবে ১০৫ টাকা সাথে আরো কিছু আনুসাঙ্গিক খরচ দিতে হবে

মনে রাখবেন পৌর এলাকা ও সিটি কর্পোরেশনের এলাকার ভেতর সব জমি অকৃষি জমি হিসেবে গণ্য হবে

তো চলুন এখন দেখি প্রথমে যে রহিমের সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম  উক্ত সমস্যাটির কিভাবে সমাধান করবে রহিম

যেহেতু রহিম যে জমিটি কিনতে চাচ্ছে উক্ত জমিটি একটি কৃষি জমি সেহেতু রহিমকে উক্ত বিক্রির ২ মাসের মধ্যে এখতিয়ারধিন কোর্টে যেতে হবে সেখানে গিয়ে একজন ভালো আইনজীবীর মাধ্যমে হবে  ‘রাষ্ট্রীয় আধগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন (সংশোধনী) ২০০৬ এর ৯৬ ধারা অনুসারে অগ্রক্রয়ের মামলা করাতে হবে।

Pages: 1 2

    Print       Email

You might also like...

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় ডা. আকাশের স্ত্রী রিমান্ডে

Read More →